• ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Second Part

নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (দ্বিতীয় পর্ব )

প্রতিদিনের মতোই আজও তন্ময় এসে বসেছে নিজের চেয়ারে আর দেখে চলেছে একের পর এক ফাইল, তার ভিতরে একই সাথে অস্বস্তি আর রাগের অনুভূতি হচ্ছে।অস্বস্তি এটা ভেবে যে সে কিছুতেই কোনো সন্দেহভাজন ধরতেই পারছেনা আর রাগ এটা ভেবে এই শ্রেয়ার আগে তার মাথায় এই গোটা এক সপ্তাহ রাত ৮টা -ভোর ৫টা কারফিউ জারি রাখার কথা। মেয়েটা এই রাতের অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তায় নিজেরই লোক সাজিয়ে রেখেছে চারিদিকে। অপরাধী শিকার দেখে যদি লোভে পরে এগিয়ে আসে তো কিস্তিমাত।এমনসময় প্রায় হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে এসে অমিত বাবু বললেন, ম্যাম, কাল রাত থেকে সুবীর বাবুকে পাওয়া যাচ্ছিলোনা, আজ সকালে মনিস্ট্রির সামনে ওনার জামা কাপড় আর আধ খাওয়া শরীর পাওয়া গেছে।কথা বলতে গিয়ে অমিত বাবু যেন হাপিয়ে উঠছেন, ভয় তার চোখে মুখে স্পষ্ট। ম্যাম এটা কোনো মানুষের কাজ হতেই পারেনা, এটা কোনো না কোনো জন্তুর কাজ।শ্রেয়া: জন্তু? এই শহরের মাঝে? কি করে আসবে? আর আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা কি বলছে?অমিত: ম্যাম কোনো সিসিটিভিতে কিছু ধরা পড়েনি, শুধু দেখা যাচ্ছে সুধীর একটু এগিয়ে গেলো সামনে একটা কফি সপের দিকে, তারপর হটাৎ ওর চিৎকার, ব্যাস, তারপর আর কোনো ফুটেজ নেই ম্যাম।শ্রেয়া: কোনো সিরিয়াল কিলার? কিন্তু সে মানুষের মাংস কেন খাবে?তন্ময় এবার বলে উঠলো, খেতেই পারে, হতে পারে সে ক্যানিব্যাল, বা হতে পারে তার কোনো পোষা জন্তু আছে যে মানুষের মাংস খায় রাতের অন্ধকারে।শ্রেয়া: মানে স্যার আপনি বলছেন আমাদের শহরে নরখাদক ঘুরে বেড়াচ্ছে?তন্ময়: শুধু নড়খাদক বলিনি শ্রেয়া, কোনো মানুষের পোষা হিংস্র জন্তুও হতে পারে, তুমি বোধহয় পুরোটা শুনলেনা, এভাবে কিন্তু নিজের জায়গা বেশিদিন ধরে রাখা চাপ।শ্রেয়া আর কথা বাড়ালোনা তন্ময়ের সাথে, সে জানে তন্ময় মেনেই নিতে পারেনা তার জুনিয়র তাকে লিড করছে এই কেসে, আর তাই মুহূর্তে মুহূর্তে তাকে ক্ষত বিক্ষত করে কথার বানে।তন্ময় আর দেরি না করে বেরিয়ে পড়লো ক্যাফেটেরিয়ার উদ্দেশ্যে, আজ সে ঠিক করে নিয়েছে গার্গীকে সে প্রপোজ করবে। একমাত্র গার্গীই পারে তাকে ভালোবাসতে আর ভালো রাখতে।শ্রেয়া বেরিয়ে পড়লো নিজের তদন্তের খোঁজে, সে তন্ময়কে বেরিয়ে যেতে দেখে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো, এই লোকটা থাকলে তার তদন্তের কোনো কাজই করা সম্ভব হবেনা। শ্রেয়া সুমন্তকে বললো, জিপ বের করো, ঘটনাস্থলে যাওয়া দরকার আগে।প্রায় ২০ মিনিট পর মনিস্ট্রির সামনে এসে থামলো জিপ, শ্রেয়া নেমে এলো, বডি নিয়ে যাওয়া হয়েছে পোস্টমর্টেম করতে। শ্রেয়া চারিদিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে চলেছে, এগিয়ে যাচ্ছে সামনের সেই কফিসপের দিকে। নাহ খুনি যেন কোনো প্রমান ছেড়েই রাখেনি। এতো সুন্দরভাবে গুছিয়ে ক্রাইম কি একজনের পক্ষে সম্ভব?সুমন্ত: ম্যাম ইনি কিছু বলতে চান।শ্রেয়া নিজের খেয়াল থেকে বেরিয়ে এলো, তার সামনে দাঁড়িয়ে একজন বেশ বয়স্ক লোক এই ঠান্ডায় কেঁপে চলেছেন, শ্রেয়া, কিছু দেখেছেন?লোকটা ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না, শুধু পকেট থেকে বের করে দিলেন একটা কানের দুল আর কাপা স্বরে বলে উঠলো, কাল রাতে ওই পুলিশ অফিসারকে......নাহ আর পারলোনা লোকটা, বোধহয় ওই ভয়ানক দৃশ্যটা মনে পরে গেলো, শ্রেয়া , সুমন্ত এনাকে নজর রেখো, আর আপনি আমার অর্ডার ছাড়া এই জায়গা ছাড়বেন না।শ্রেয়া এবার কানের দুলটা আরো ভালো করে দেখলো, চোখের মুখে একটা অন্যরকম যেন ভয়ের আভাস স্পষ্ট, তাহলে কি স্যার যেটা বললেন সেটাই ঠিক?তন্ময়ের অনেক অনুরোধে শেষমেষ নিজের কাজ শেষ করে ক্যাফেটেরিয়ায় এসেছে আজ গার্গী, কিন্তু তার মন যেন এখানে নেই। তন্ময় অবশ্য প্রতিদিনের মতোই গার্গীকে নিজের মনের কথা, ভালোবাসার কথা বলেই চলেছে, তবে একটা সময়ের পর তন্ময়ের মনে হলো সে যেন কেবলই দেয়ালের সাথে কথা বলে যাচ্ছে কারণ গার্গী তো পাত্তাই দিচ্ছেনা তার মনের অবস্থাকে।তন্ময়: গার্গী তোমাকে আজকে কিরকম আনমনা মনে হচ্ছে ! সব ঠিক আছে তো ?গার্গী: কি?তন্ময়: তুমি ঠিক আছো?গার্গী: ঠিক না থাকার কি আছে?তন্ময়: তাহলে এইরকম লাগছে কেনো তোমায় ??গার্গী: কিরকম লাগছে?তন্ময়: পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়া এত সহজ নয় ম্যাম। আপনি কিছু একটা লুকাচ্ছেন মিস ডক্টর।গার্গী: এই পুলিশগিরি বাইরে করবে আমার সাথে করতে এসো না, আর তাছাড়াও আমার অনেক কাজ আছে তন্ময়, তোমার জন্য চেম্বার ছেড়ে এসেছি।তন্ময়: আহা রেগে যাও কেন, তুমি ছাড়া আর কে আছে বলো যার কাছে একটু সময় চাইতে পারি।গার্গী: দেখো তন্ময়, তোমায় আমি অবশ্যই পছন্দ করি, তুমি তোমার বাবা মা, ভাই বোন, তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড সবার ব্যাপারে নিজেই বলেছো কিন্তু আমায় জিজ্ঞেস করেছো কোনোদিনও আমার পরিবারে কে থাকে? আমি কিভাবে বড়ো হয়েছি? আমায় কি কি সহ্য করতে হয়েছে? তন্ময় তুমি বলো তুমি আমায় ভালোবাসো অথচ তুমি তোমার ভালোবাসার কোনো খবর রাখো না উল্টে তুমি এমন ব্যবহার করো যেন মনে হয় চেম্বারের বাইরেও আমি কারোর কাউন্সেলিং করছি।তন্ময়: সরি গার্গী, আমি এর আগে কখনো প্রেম করিনি, তাই আমি অনেক ভুল করেছি, কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমায় ভালোবাসি। আজ তুমি বলো তোমার পরিবারের ব্যাপারে, তোমায় বিয়ে করতে হলে তো তাদেরকে আগে চিনতে হবে, তবে না গিয়ে বলতে পারবো আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি, ওকে নিজের করতে চাই।গার্গী: আমার বাবা মা কেও নেই, আজ থেকে ৫ বছর আগে একটা এক্সিডেন্টে দুজনেই....!তন্ময়: সো সরি, তাহলে তোমার পরিবার?গার্গী: আমার পরিবার একজনকে নিয়েই আমার বোন। আর আমার বোন হলো শ্রেয়া, ইন্সপেক্টর শ্রেয়া, যাকে তুমি একদমই সহ্য করতে পারোনা।তন্ময় চমকে গেলো এই কথাটা শুনে, শ্রেয়া তোমার বোন?গার্গী: আজ্ঞে হ্যাঁ, ও আমারই বোন, যতবার তোমায় বলতে গেছি তুমি কথা ঘুরিয়ে দিয়েছো। এবার বলো, শ্রেয়ার দিদির সাথে প্রেম করবে? ও ছাড়া কিন্তু আমার কেও নেই, আমি ওর কেও নেই তাই আমরা কিন্তু যেখানেই থাকবো একসাথে থাকবো। তন্ময়: আজ থেকে আছে তো, আমি আছি তোমাদের দুজনের জন্য আর তোমরা দুজন আমার জন্য।গার্গী: সত্যি বলছো তন্ময়?তন্ময়: সত্যি সত্যি সত্যি, তিন সত্যি। এবার তো একটু হাসুন ম্যাম, আপনার ওই হাসি দেখার জন্য যে আমি প্রাণও দিতে পারি। গার্গী: থাক অনেক হয়েছে, এবার যাও নিজের কাজে আর আমাকেও যেতে দাও।তন্ময়: গার্গী, তুমি আমায় যতটা খারাপ ভাবো আমি কিন্তু ততটা নয়।গার্গী: তুমি খারাপ মানুষ নয় তন্ময়, কিন্তু তোমার ছোটবেলা কেটেছে একাকিত্বে, আর তাই তুমি চাইলেও নিজের আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব বদলাতে পারোনা। আর এটা নিয়ে আবার নিজেই কষ্ট পাও। তুমি মানুষ ভালো শুধু নিজেকে চিনতে পারোনা।তন্ময়: তুমি আছো তো আমায় চেনানোর জন্য। থাকবে তো এভাবেই?গার্গী: ঠিক থাকবো। এবার বরং আসি, নাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।তন্ময়: আচ্ছা বেশ আর আটকাবো না।এই বলে গার্গী উঠে দাঁড়ালো এবং রেস্টুরে্নট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এগিয়ে গেলো, এরই মাঝে হটাৎ গার্গী দাঁড়িয়ে পড়লো আর বললো, তন্ময়, সাবধানে থেকো, আমি তোমায় ভালোবাসি, পারলে নিজেকে এবং শ্রেয়াকে এই কেস থেকে দূরে নিয়ে যেও, মনে করো এটাই আমার তোমার থেকে আবদার।তন্ময়: কিন্তু, এই কেসটা শ্রেয়ার জন্য খুব জরুরী।গার্গী: কারোর প্রাণের থেকে বড়ো কিছু হতে পারেনা তন্ময়।এই বলে গার্গী বেরিয়ে গেলো। গার্গী র এইরকম আচরণ তন্ময়কে বেশ অবাক করে তুললো। যে মেয়ে সবসময হাসি খুশি থাকে, যে মেয়ে তার হাসির কারণ, যে তাকে সবসময় মোটিভেট করেছে এই তদন্তে সেই কিনা আজকে এইরকম ভাবে কেস ছেড়ে দিতে বলছে ? তন্ময় ভাবলো, কি হলো, আমাকে সরিয়ে নাহয় তাও বুঝলাম নিজের বোনকে সুযোগ করে দিতে চায় কিন্তু নিজের বোনকেও সরে যেতে বলছে ?? কেনো জানিনা মনে হচ্ছে ও কিছু বড়ো একটা লুকিয়ে ফেলছে।এমন সময় তন্ময়ের ফোন টা বেজে উঠলো, তন্ময় দেখলো স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে মৃদুলের নাম। এই মৃদুল হলো তন্ময়ের অতি বিশ্বস্ত ইনফরমার, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে এই ছেলেটা খবর বের করতে পারেনা।আজ থেকে পাঁচ বছর আগের কথা, তখন এই মৃদুল ছিল কুখ্যাত মাফিয়া আবরারের ডানহাত। বহু চেষ্টা করেও পুলিশ আবরারকে ছুঁতে পর্যন্ত পারেনি। অবশেষে কেসটা এলো তন্ময়ের হাতে। তন্ময়ও প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছিলো ঠিক এমন সময়ে সামনে উপস্থিত হলো মৃদুল।দিনটা ছিল এক বর্ষার, মৃদুল পুরোই ভিজে গেছে আর হাঁপাচ্ছে। তন্ময় ওকে শান্ত করে জল দেয় খেতে। তারপর মৃদুল ধীরে ধীরে সব তথ্য দেয় আবরারের আর মৃদুলের বিশ্বাসঘাতকতাই আবরারকে ধরিয়ে দেয়।আবরার ধরা পড়ার পর অবশ্য তন্ময় জানতে চেয়েছিলো কেন সে নিজের মালিকের সাথে এইরকম করলো, উত্তরে সে বলেছিলো আবরারের স্ত্রীকে সে ভালোবাসতো আর আবরার প্রতিদিন প্রতিরাত মেয়েটার উপর অত্যাচার করে বেড়াতো তাই আর সহ্য না করতে পেরে শেষমেষ সে এই সিদ্ধান্তই নেয়। এখন অবশ্য দুজনে একসাথে সুখেই আছে। মৃদুল নিজের ব্যবসাও করছে আর সাথে তন্ময়ের খবরি সে।তন্ময় ফোনটা ধরতেই মৃদুল বলে উঠলো,স্যার একটা খবর আছে!তন্ময়: কি ?মৃদুল:আজ থেকে ২ বছর আগে রানিগঞ্জে এইরকম মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল স্যার।তন্ময়: কিন্তু সেরকম তো কোনো রিপোর্ট ফাইল হয়নি!মৃদুল: হবে কিভাবে ? কারণ যারা নিখোঁজ হয়েছিল তারা সবাই গ্যাংস্টার ছিল, একটা সময় প্রায় ৫ টা গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য লড়াই করছিল কিন্তু হটাৎ একটা গোষ্ঠী ফুলে ফেঁপে ওঠে আর আর বাকি গোষ্ঠী গুলোর লোকজন যেনো ভ্যানিশ হয়ে যায় পুরো, কেও খুঁজে পায়নি তাদের।তন্ময়: সেটাতো নিজেদের মধ্যে লড়াইতে বাকিরা মারাও যেতে পারে...মৃদুল: স্যার লোক গুলো ঠিক এইভাবেই ভ্যানিশ হতো, শুধুই রক্ত আর হাড় পাওয়া যেত মাঝে মাঝে, মাঝে মাঝে সেটাও না। পুলিশ রিপোর্ট ফাইল হয়নি কারণ ওদের পরিবারের লোকেরা ভয় পেয়েছিলো।তন্ময়: আচ্ছা যে গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত টিকে গিয়েছিল তাদের নেতার নাম কি ?মৃদুল: ওয়াসিম ! কিন্তু স্যার ওয়াসিমও বেচেঁ নেই।তন্ময়:সে কি মারা গেলো কিভাবে ?মৃদুল: ওইভাবেই, একদিন ওরও রক্ত আর হাড় পাওয়া যায়। তবে এই কেস তার ইনভেস্টিগেশন করেছিল শ্রেয়া ম্যাম !তন্ময় : কি ?মৃদুল: ইয়েস স্যার! আর শেষ পর্যন্ত রণজিৎ ধরা পড়ে ম্যামের হাতে, আর জানা যায় যে এই রণজিৎ নিজে সর্বেসর্বা হওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের সমস্ত শত্রুদের মেরে কুকুরকে খাইয়ে দিত।তন্ময়: এই রণজিৎ কোথায় এখন ?মৃদুল: যেদিন এর কেস কোর্টে ওঠে সেদিন কোর্টে যাওয়ার রাস্তায় রণজিৎ সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে আর পুলিশ এনকাউন্টার করে দেয়।তন্ময়: আচ্ছা রঞ্জিতের ডেড বডির কি হয়েছিল?মৃদুল: রঞ্জিতের কোনো ফ্যামিলি ছিলনা তাই পুলিশ ওর সৎকার করেছিল।তন্ময়: কুকুর গুলোর কি হয়েছিল?মৃদুল: পুলিশ, কুকুর গুলোকে বন বিভাগের কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছিল।তন্ময়: সব কিছুই যে শেষ হয়ে বসে। ক্রিমিনাল বেচেঁ নাই। মরণাস্ত্র মানে কুকুর গুলোর পক্ষে সম্ভব নয় তাহলে এই নতুন কিলার আমদানি হলো কিভাবে ?মৃদুল: আপাতত এইটুকুই খবর পেয়েছি স্যার।তন্ময়: আচ্ছা একটা কাজ করো, আপাতত একজনের উপর নজর রাখতে হবে। ১-২ দিনেই কাজ হয়ে যাবে মনে হয়।মৃদুল: কে স্যার?তন্ময়: গার্গী চৌধুরীক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ২০, ২০২৫
নিবন্ধ

ফারাও এর দেশ ঘুরে... (ভ্রমণ কাহিনী) দ্বিতীয় পর্ব

আমাদের মিশর সফর কায়রো থেকে শুরু হয়ে কায়রোতেই শেষ হবে। আর আজ সেই দিন যে দিন আমরা বিশ্বের প্রাচীন বিস্ময়ের সামনে দাঁড়াব। আজ আমাদের পিরামিড দেখার দিন। গাড়ি করে রওনা দিলাম চরম আগ্রহ নিয়ে।আমাদের প্রথম গন্তব্য সাক্কারা। সাক্কারা হল মিশরের প্রাচীনতম Royal Necropolis বা রাজধানী। সাক্কারা তে প্রাচীন কবরস্থানও দেখা যায়। এই অঞ্চলের সব পিরামিড বা tomb গুলির সময়কাল প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্ব। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৫০১৯ বছর আগেকার। এই এত বছরের হিসেবটা চট করে আমাদের মাথায় আসেনা। আমাদের মত সাধারন মাপের মানুষ জন বুঝতেই পারেনা যে, এটা ঠিক কত বছর আগে হতে পারে, আর তখন কার সাথে আজকের পার্থক্যটাই বা কতটা সেটাও বুঝতে বেশ অসুবিধা হয়। তবে সেই সব স্থাপত্যের সামনে গিয়ে বেশি কিছু বোঝার থাকেনা। শুধু বিস্ময়ে হকবাক হয়ে যাওয়া ছাড়া। তাদের অস্তিত্ব্যের সামনে নিজেকে খানিকটা হাস্যকর মনে হয়।কায়রো শহর থেকে একটু দূরে সাক্কারা। Old Kingdom বা পুরনো রাজবংশের মিশরীয় রাজারা বা Pharaoh রা বিভিন্ন ভাবে পিরামিড তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। কেউ ধাপে ধাপে করে, কেউ ৪৫ ডিগ্রী কোণ করে। কোনটি আবার শুধু মাত্র ঢিবি হয়ে রয়ে গেছে। কোনটি আবার বানানোর পর ভেঙ্গে পরেছে যাদের আজকাল বলা হয় Collapsed Pyramid। সাক্কারা চত্তরে কাছে দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সেই সব বিভিন্ন রকমের পিরামিড এরই নমুনা।পিরামিড কথাটি এসেছে পুরনো মিশরীয় শব্দ pey-raa-mid থেকে। যার অর্থ স্বর্গে যাবার সিঁড়ি বা ভগবান রা এর কাছে যাবার সিঁড়ি। এই রা দেবতা হলেন মিশরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেবতা, যিনি অন্য অর্থে সূর্য দেবতা। প্রাচীন মিশরীয়রা সূর্য দেব কে পূজা করতেন, কারণ তারাও মনে করতেন যে, সর্ব শক্তির আধার, প্রাণের আধার। পৃথিবীর সব প্রান্তেই, সব প্রাচীন সভ্যতাতে সূর্য দেবতার পূজা দেখে অবাক হতে হয়। দক্ষিণ আমেরিকার মায়া সভ্যতায় Kinich Ahau, মিশরীয় দের Raa, গ্রীকদের Apollo Helious বা ভারতীয়দের সূর্যদেব। এর থেকেই বিশ্বাস জন্মে যে, পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষের ভাবনা চিন্তা এক ধরনের বা তার প্রকৃতিগত সুত্রপাত এক জায়গা থেকেই।সাক্কারা তে যে সব tomb আমরা দেখতে গেলাম সে সব ই রাজা, রানী, পুরোহিত না উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের। মিশরীয় রা বিশ্বাস করত যে, মৃত্যুর পরের জীবনই আসল জীবন। তাই এই মানুষ জীবনে যাই হোক না কেন, পরের জীবন কে সুন্দর করে তুলতে হবে। আর সেই কাজই ছিল তাদের প্রধান কাজ। তাই জন্যই তারা এই পিরামিড বানাত। আর পিরামিড কে সব উপায়ে সুন্দর করার চেষ্টা করত। সাক্কারা তে আমরা একটি পিরামিড এ ঢুকলাম। সেটা রাজা বা ফারাও তিতির। বেশ ৫০-৬০ ফুট নীচে নামতে হল। ঘাড় নীচু করে কোমর বেঁকিয়ে নামলাম নীচে। এবার অবাক হবার পালা। পিরামিডটির সাদা দেওয়াল জুড়ে প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় লেখা যাকে বলে hieroglyph writings. লেখা না বলে আঁকা বললেই বোধহয় ঠিক হবে। সব শেষে গেলাম সেই জায়গায় যেখানে মমি রাখা হত। এই ঘর কে বলে sarcophagus room। ভাবার চেষ্টা করতে লাগলাম যে কি করে অত বছর আগে প্রাচীন মিশরের মানুষ কি করে এই সব বানিয়েছিলেন আর কি করেই বা কি করতেন তারা।হিয়েরগ্লিফ লেখা, সাক্কারা পিরামিডের ভিতরেএই সব আঁকা বা লেখা কতবার ই তো ছবির বইতে দেখেছি। কিন্তু সামনে দেখার যে অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা সে লেখার ভাষা আমার নেই। অভিভূত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ। মনে হল যে আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে, সদ্য মৃত কোন প্রিয় ফারাও কে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়ে এই পিরামিডে চিরনিদ্রায় ঘুম পারিয়েছিল তার রাজ্যবাসী। যত ভেবেছি তত অবাক হয়েছি। এরপর গেলাম সেই চত্বরেই অন্য একটি পিরামিড-এ। সেখানে দেওয়াল চিত্র আরও বেশি স্পষ্ট, ভাবাই যায়না যে সেগুলি এত বছর আগেকার। এখানে দেওয়াল এর বাইরের অংশের লেখা বা আঁকা দেওয়ালে গর্ত করে করে লেখা হত। আর দেওয়ালের ভিতরের অংশ এ wedged out পদ্ধতিতে, অর্থাৎ শুধু লেখা অংশ টিকে রেখে দিয়ে বাকি অংশ চেঁচে ফেলে দেওয়া হত। এর কারন ও খুব স্পষ্ট, বাইরের দিকের দেওয়াল রোদ বৃষ্টি গরম সব সহ্য করবে তাই ক্ষয় হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি তাই গর্ত করে করে লেখা হত, আর দ্বিতীয়ত দূর থেকে এই ধরনের লেখা হলে দেখতে সুবিধা হবে। আর ভিতরের দেওয়ালে কোন অসুবিধা নেই, তাই যে ভাবে খুশি ছবি আঁকা হয়েছে আর সুন্দর করা হয়েছে।প্রাচীন মিশরীয় যে কোন ছবিতে দেখা যায় যে পুরুষ ও মহিলাদের গায়ের রঙ আলাদা। পুরুষ দের গায়ের রঙ হত গাঢ় মেরুন বা খয়েরি বা একদম কালো আর মহিলাদের গায়ের রঙ হত হালকা যেমন হলুদ বা সাদা। এর কারন হিসেবে বলা যেতে পারে যে সমাজের নিয়ম অনুসারে পুরুষ রা বাইরে কাজে যান তাই তাদের গায়ের রঙ গাঢ় হয়ে গেছে। ভাবতে অবাক লাগে যে সেই অত বছর আগেও এত শক্ত সামাজিক ধারণা মিশরীয়দের ছিল। মিশরীয় সমাজে দেবীই হোক বা সাধারণ নারী সবাই গৃহ বধুর তকমা পেত। তাদের মধ্যেও এই ধরনের বিভেদ দেখে বেশ অবাক হতে হয়। আর এতেই ধারণা আরও স্থির হল যে মানুষের ভাবনা চিন্তা সব সময়ই স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষে একই ধরনের হয়ে থাকে।স্টেপ পিরামিদ, সাক্কারাএখান থেকে আমরা গেলাম সেই বিখ্যাত স্টেপ পিরামিড দেখতে। archeological কাজ চলার জন্য একদম কাছে যাওয়া হল না আর ভিতরে ঢোকা গেলনা। মিশরের প্রধান স্থপতি ইমহতেপ (Imhotep) এই পিরামিডটি সবার প্রথমে বানান। এই পিরামিড টি তখন কার ফারাও Djoser এর জন্য গঠন করা হয়।এই পিরামিডটির প্রায় ৬ টি ধাপ আছে, যা মাটি থেকে ক্রমশ ছোট হতে হতে উপর দিকে উঠেছে। এই পিরামিড টিও হলুদ রঙ এর বেলে পাথর বা sand stone দিয়ে তৈরি। হলুদ রঙের, বিশাল এক স্থাপত্য ৪০০০ বছর ধরে ক্রমশ ধীরে ধীরে স্বর্গের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে সেই স্বর্গের উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।Papyrus এ আঁকা রাজা অসিরিসের শেষ বিচার সভাএই পিরামিড চত্বরেই আমরা দেখলাম ফারাও Djoser এর mortuary temple। এই temple বা মন্দির মানুষের মৃত্যুর পর মমি তৈরি করার জায়গা। মিশরীয়দের নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পর ৭০ দিন ধরে মমি তৈরির কাজ চলে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুর দেবতা Anubis বা শেয়াল দেবতা এই পদ্ধতি শুরু করেন। প্রথা অনুসারে মৃতের দেহ থেকে প্রথমে যকৃৎ (liver) , শ্বাসযন্ত্র বা ফুস্ফুস (lungs) , পাকস্থলী (stomach) , ও অন্ত্র (intestine) বের করে নেওয়া হত। এই অঙ্গ গুলিকে এক একটি কৌটো এর মধ্যে ভরে রাখা হত কিছু রাসায়নিক তরলের মধ্যে, যার রহস্য আজও অজানা। আর এই কৌটো গুলি বিভিন্ন জন্তুর মুখের ছবি দেওয়া হত। এই ধরণের কৌটো গুলি কে বলা হয় canopic jars। মস্তিষ্ক বের করে আনা হত নাসারন্ধ্র দিয়ে। মস্তিষ্ককে সংরক্ষণ করা হত না। হৃদয় রেখে দেওয়া হত শরীরের মধ্যে। মিশরীয় রা বিশ্বাস করত যে মানুষের দেহে হৃদয়ই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই হৃদয় বা মিশরীয় ভাষায় Ba এর বিচার, মানুষের জীবনের শেষ দিনে, ভগবান Osiris এর দরবারে হবে। সেই খানেই স্থির হবে যে এই মানুষটি স্বর্গে যাবার উপযোগী কিনা। যদি উপযোগী হয়, তাহলে Ba রূপ বদলে হয়ে যাবে কা (Ka),যা অবিনশ্বর।Papyrus এ আঁকা আনুবিস শেষ বিচার করছেন ছবি ইন্টারনেটFinal judgement বা শেষ বিচার হয় দেবতাদের রাজা বা মিশরীয়দের প্রধান দেবতা অসিরিস বা Osiris এর দরবারে। সেখানে ১২ জন দেবী (যারা দিনের ১২ ঘণ্টার প্রতিনিধি) মানুষের আত্মাকে প্রশ্ন করেন ১২ টি প্রশ্ন। এর মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে স্বর্গে যাবার সুযোগ ঘটে। যেমন উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাজা অসিরিস, চেয়ারে বসে বিচার করছেন। আনুবিস দাঁড়িপাল্লাতে বা কে ওজন করে দেখছেন। অন্যান্য দেবতারা সেই বিচারের ফলাফল আবার অসিরিস কে জানাচ্ছেন। কি চমৎকার দর্শন, কি সুন্দর সহজ চিন্তাধারা ।আর এই ছবিতেও আনুবিস কে সেই বিচার কাজে সাহাজ্য করতে দেখা যাচ্ছে। এই স্টেপ পিরামিড চত্বর থেকেই দূরে মরুভুমির মধ্যে দেখা গেল bent pyramid, red pyramid আর আরও দূরে Great Pyramid বা Giza.Step Pyramid ঘুরে আমরা গেলাম প্যাপিরাস কারখানাতে। সেখানে প্যাপিরাস তৈরি করা দেখলাম। পদ্ধতি টা বেশ সুন্দর ও সহজ। প্যাপিরাস আসলে এক ধরনের ঘাস জাতীয় গুল্ম। সেই গাছের নরম ডাল কেটে জলে ভিজিয়ে রাখলে, পাট গাছের মতই তার পাতলা আস্তরণ বেরিয়ে আসে। এবার সেই আস্তরণ গুলিকে লম্বালম্বি ও আড়াআড়ি, তাঁত বোনার মত করে রেখে কোন ভারি বস্তু দিয়ে চেপে রাখতে হয় অনেক্ষন। এই ভাবে চাপে রাখার ফলে তৈরি হয় প্যাপিরাস বা paper। এই পাপিরাস থেকেই পেপার শব্দটি এসেছে, পেপার ও বর্তমানে তৈরি হয় খানিকটা এই পদ্ধতি ধরেই। আশ্চর্যের বিষয় অত বছর আগে মিশরীয়রা কি করে এই প্রথা আবিষ্কার করেন। এই কারখানায় আদর আপ্পায়নের ব্যাপার ই আলাদা। সেখানে যেতেই আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হল আমরা hibiscus tea খাব কিনা? আর খেলে কেমন খাব? ঠাণ্ডা না গরম। জবার চা হয় জানতাম না, গরম ও ছিল ভাবলাম ঠাণ্ডাই খাই। যেমনি বলা ওমনি এসে গেল ছোট গ্লাসে করে লাল রঙ এর পানীয়। বেশ ঠাণ্ডা । জবার চা মানে লাল ত হবেই, তবে চা সুলভ কোন গন্ধ নেই। চেখে দেখলাম, বেশ টক মিষ্টি খেতে আর গরমের মধ্যে মনে হল অমৃত। সেই চা খেয়ে এতটাই আপ্লূত হলাম যে দেশে ফিরে Amazon থেকে খুঁজে order দিয়ে দিলাম। এখনও সে চা বাড়িতে আছে আর গরম কালে খেতে ভালই লাগে।Papyrus গাছদুপুরে খাবার পর আমরা Giza যাবার রাস্তা ধরলাম। তখনও নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারিনি। বেশ কিছুটা traffic jam কাটিয়ে পৌঁছলাম Giza চত্বরে । রাস্তায় একটা বাঁক নিয়ে গাড়ি যখন ঘুরলো, দেখতে পেলাম রাজা খুফুর পিরামিডকে। পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতমকে। দূর থেকে দেখেই তার বিশালত্বে কেমন যেন ঘাবড়ে গেছিলাম। তারপর মনে হল স্বপ্ন দেখছি । নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে সত্যি ই আমি Great Pyramid এর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এতদিন এর স্বপ্ন দেখার চূড়ান্ত পরিনতি আমার সামনে। পৃথিবীর প্রাচীনতম ইতিহাস এর সাক্ষীর সামনে আমি।Giza হল রাজা বা ফারাও খুফুর সমাধি বা পিরামিড। এই ফারাও আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে মিশরে রাজত্ব করেন। তাঁর সময়কাল প্রায় ৫০ বছরের। মিশরের ইতিহাস এ এই সময়টিকে পুরানো রাজত্বকাল বা old kingdom বলে। ফারাও খুফু Cheops নামেই পরিচিত ছিলেন। শোনা যায় এই নাম তাকে গ্রীক ঐতিহাসিকরা দিয়েছিলেন।Great Pyramid, ফারাও খুফুর পিরামিডখুফুর ;পিরামিড প্রায় ৪৮১ ফুট উঁচু, আর এটি যে মাটির উপর দাঁড়িয়ে আছে, তার দৈর্ঘ্য ৭৫৬ ফুট। মোটামুটি ভাবে ২৫৬০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এটি বানানো শেষ হয়। এই পিরামিড এর গায়ে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন পাথর আছে , যার এক একটির ওজন ৩ টন । এই পিরামিড এর হলুদ পাথরের উপর আগে চুনা পাথরের প্রলেপ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেটি আর নেই। সাদা চুনা পাথরের প্রলেপ এর জন্যই এই পিরামিড এর আসল রঙ ছিল ধবধবে সাদা। সাহারা মরুভুমির মধ্যে এই বিশাল আকৃতির সৌধটি যখন রোদের আলোয় ঝলমল করত , তখন তাকে ঠিক এক টুকরো হীরে বলেই মনে হত। এর মাথার উপরে আরও ১৪ ফুট উঁচু একটি অংশ ছিল। আজ যা আর দেখতে পাওয়া যায়না । সেই উচ্চতা যোগ করলে আজও এই পিরামিডটি পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ সৌধ, যা মানুষের হাতে তৈরি। তবে তা সত্ত্বেও এর বিশালতা ও গঠন আজও মানুষকে অবাক করে।একসাথে তিনটি পিরামিড, গিজাফারাও খুফুর পিরামিড এর পাশেই আছে ফারাও খাফ্রেন (Khafrain) এর পিরামিড। এই রাজাও old Kingdom এর সময়ই রাজত্ব করেছিলেন। এই পিরামিডটির একদম উপরের অংশে সাদা চুনা পাথরের প্রলেপ কিছুটা হলেও আছে। এটি গিজার থেকে উচ্চতায় একটু ছোট। তবে গিজা পিরামিডের উপরের ১৪ ফুট অংশ না থাকায় এটিকে অনেক সময়ই বেশি উঁচু বলে মনে হয়। তবে যে পরিমান ভুমির উপর পিরামিড দুটি বানান হয়েছে সেটি লক্ষ্য করলেই সেই ভুল ভাঙে।ফারাও মানকুরের পিরামিড, গিজাএই পিরামিডটির পিছনে আছে আরও একটি ছোট মাপের পিরামিড। এই ছোটটি ফারাও মানকুরের (Mankure)। যে কোন পিরামিডের ভিতরেই ঢোকা যায়, তবে তার জন্য আলাদা টিকিট এর ব্যবস্থা আছে। খুফুর পিরামিড সারা বছর পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে আর বাকি দুটি ৬ মাস করে এক একটি। তবে এই পিরামিড গুলির ভিতরে কিছুই নেই। না আছে কোন ছবি, লেখা, না কোন জিনিস পত্র। সব ই সেগুলি জাদুঘর এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা মানকুরে পিরামিডের জন্য আলাদা টিকিট কেটে তার ভিতরে গেলাম। এখানেও প্রায় ৫০ ফুট নীচে নামতে হল। তবে আগের বারের অভ্যেস থাকায় খুব অসুবিধা হয়নি। ভিতরে গিয়ে প্রধান ঘরটিতে দাঁড়ালাম, সামনে একটি পাথরের বাঁধানো জায়গা, যেখানে শোয়ানো ছিল ফারাও মানকুরের সারকোফাগাস।মিশরে পিরামিড তৈরি হবার সময় থেকেই পিরামিডের ধন সম্পত্তি লুঠ করার প্রবনতা দেখা যায়। ফারাও রা অনেক চেষ্টা করেও সেই সব চোরদের আটকাতে পারেননি। মিশরের মানুষ জানত যে পিরামিদের মধ্যেই লুকানো আছে ফারাওদের সব ধন সম্পত্তি। তাই পরজন্মে বিশ্বাস থাকলেও চুরি করতে তাদের বাঁধেনি। তারাই পিরামিডগুলিকে নষ্ট করেছে বেশি। পরের দিকে ফারাওরা বুঝতে পেরে, পিরামিড বানান বন্ধ করে অন্য রকম ভাবে তাদের সৌধ বানাতে থাকেন। তবে তাতেও যে কত টা চুরি আটকানো গেছে, সেটা সবার অজানা।এখান থেকে আমরা গেলাম solar boat museum বা সৌর নৌকা দেখতে। এই সৌর নৌকা কিসে কাজে লাগে সে বিষয়ে পরে আসছি। সৌধ গুলির পাশে নৌকা থাকার কয়েকটি কারণ আছে। মিশরীয়দের মতে মৃত্যুর পর স্বর্গে যাবার রাস্তা দুটি, পায়ে হেঁটে বা নৌকা চড়ে। তাই প্রতি পিরামিড এর পাশে একটি করে নৌকা রাখার জায়গা ও কিছু নৌকার ধ্বংসাবশেষও পাওয়া গেছে। সেগুলির মধ্যে অবশ্যই ফারাও খুফুর টি সব থেকে বড়। নীচের ছবিটিতে সেই সৌর নৌকা রাখার গর্ত খানি দেখা যাচ্ছে।সৌর নৌকা রাখার গর্তএই নৌকাটি বর্তমানে পাশেই তৈরি একটি মিউজিয়ামে আছে। এই নৌকাটি এতটাই বড় যে এর ছবি তোলা প্রায় অসম্ভব। আর এই museum এ ছবি তুলতেও দেয়না। তাই মনের ক্যামেরাতেই সেই ছবি ধরে রাখতে হল। নীচের ছবি টি ইন্টারনেট এর সৌজন্যে। তবে সেখানেও পুরো নৌকা টি বোঝা যাচ্ছেনা।নৌকা থাকার আরও একটি কারণ আছে। মিশরীয় পুরাণ অনুযায়ী, তাদের প্রধান দেবতা অসিরিস যিনি অধোলোক এর দেবতা, ভবিষ্যৎ জীবনের দেবতা ও ফলশালিত্বের দেবতা। তাঁর মৃত্যু হয় তাঁর ভাই সেথ এর হাতে। সেথ হলেন মিশরীয়দের মন্দ দেবতা। সেথ অসিরিসকে হত্যা করবার পর তাঁর দেহকে ১৮ টি টুকরো করে মিশরের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দেন। তার থেকে জন্ম নেয় মিশরের ১৮ টি রাজ্য। অসিরিস এর স্ত্রী দেবী ইসিস, যিনি জাদুর দেবী, তিনি তখন সেই ১৮ দেহাংশ খুঁজে নিয়ে, জোড়া দিয়ে আবার অসিরিস এর দেহ সম্পূর্ণ করেন। অবশেষে ফারাও অসিরিসের মৃতদেহ নিয়ে মমি প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেবী ইসিস (Isis) যিনি জাদু,সৌন্দর্য, ও প্রেমের দেবী, স্বামী অসিরিস এর মমি তৈরি হয়ে গেলে সৌর নৌকা করে স্বর্গে যাত্রার অনুমতি দেন। নৌকার একদিকে দেবী ইসিস ও অন্যদিকে দেবী নেপথিস (যিনি অসিরিস এর দ্বিতীয় স্ত্রী ও সৎ বোন) বসেন, দেবীরা অসিরিস কে এই ভাবেই পরবর্তী জীবনে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই ভাবেই এটি একটি নিয়ম হয়ে যায় যে, মৃত্যুর পর মমি হওয়া দেহ নৌকা করে পিরামিডে যাবে। এই যাত্রায় ফারাও এর সঙ্গে থাকবেন তাঁর একান্ত আপন পরিবার বর্গ। বিশেষ করে দু জন মহিলা আত্মীয়াকে থাকতেই হবে। আর এই ছবিও খুবই পবিত্র মনে করা হত। এই গল্প শুনে কেমন আমাদের পুরাণের সতী দেবী ও মহাদেব এর গল্প মনে পরে যায়। সেখানেও সতী দেবীর দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি ৫১ টি ধর্মীয় স্থান। ভারতীয় জীবনেও এই স্থানের গুরুত্ব যথেষ্ট।নৌকাটি এতটাই বড় যে এর ছবি তোলা প্রায় অসম্ভবফারাও খুফুর সেই সৌর নৌকা মাটির তলায় প্রায় ৩০ ফুট নীচে বড় বড় পাথরের চাঁই দিয়ে ঢাকা ছিল। এই নৌকার দৈর্ঘ্য ১৪৩ ফুট ও প্রস্থ ১৯.৫ ফুট।এটিকে পৃথিবীর সবথেকে পুরনো জাহাজ আখ্যা দিয়েছেন ঐতিহাসিকরা। এই নৌকাটি অনেকগুলো কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল এই জাহাজ এ একটিও পেরেক নেই। নৌকা টির ১২২৪ টি ছোট ছোট টুকরো খুলে নিয়ে, ১৯৫৪ সালে জাহাজটিকে আবার নতুন করে বানানো হয়। বিশাল একটি মিউসিয়াম করে এখন সেটিকে সংরক্ষন করা হয়েছে।সৌর নৌকার মডেল, কায়রো মিউজিয়ামসৌর নৌকা দেখে আমরা গেলাম সেই স্ফিংক্স দেখতে। বিকেল হয়ে গেছিল বলে পুরপুরি সামনে থেকে দেখতে পাওয়া গেলনা। সত্যি তার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল যে সময় হয়ত থেমে গেছে। এক দৌড়ে আমি যেন পৌঁছে গেছি বহু হাজার বছর পিছনে। আরও মনে হচ্ছিল যে কত তুচ্ছ আমাদের এই একটা জীবন। এই স্ফিংক্স পিরামিডকে পাহারা দেয় বছরের পর বছর আর বর্তমান যুগের মানুষদের জানান দেয়, World fears time, and time fears pyramid।ফারাও অসিরিস ও তাঁর দুই রানী, দেবী ইসিস ও দেবী নেপথিস, কায়রো মিউজিয়ামস্ফিংক্সের মূর্তিতে সবসময়ই মুখটি হয় মানুষের আর দেহ হয় সিংহ এর। এর পিছনেও মিশরীয় দের কারণ আছে। মানুষ এর বুদ্ধি ও সিংহ এর শক্তি নিয়ে যদি সত্যি কোন প্রানী তৈরি করা যায় তাহলে সেই প্রানীই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আর এমন শক্তিশালী প্রানীরাই পারে পৃথিবীতে রাজত্ব করতে। মিশরীয় সভ্যতায়, সব ফারাও ও রানীদের স্ফিংক্স মূর্তি তৈরি হত। প্রজা বা সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। এই Great Sphinx হল ফারাও খাফ্রেন এর।পড়ন্ত বেলায় গ্রেট স্ফিংক্সস্ফিংক্স দেখে আমাদের সকালের সফর শেষ হল। সন্ধ্যের সময় আবার স্ফিংক্স এর সামনে এলাম light and sound প্রদর্শন দেখতে। অসম্ভব সুন্দর সেই প্রদর্শনী দেখতে দেখতে যেন আমরাও ইতিহাসকে আমাদের চোখের সামনে জীবন্ত দেখতে পেতে লাগলাম। মনে হচ্ছিল আমরাও যেন সেই সময় এরই সাক্ষী। স্ফিংক্স যেন সত্যই, কথা বলছে। আমিও যেন দেখতে পাচ্ছিলাম সম্রাট নেপলিয়ান বা আলেকজান্ডার এসে স্ফিংক্সের সামনে নতজানু। ইতিহাস এর শুরুই তো এখান থেকে। আর সেই ইতিহাস সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত স্ফিংক্স সব দেখেছে নিজের চোখে। সে যদি সত্যি কথা বলতে পারত তাহলে বলত গল্প, ছোটবেলার গল্প দাদুদের মত, তাহলে কত গল্পই না বলত সে। নির্বাক শ্রোতা হয়ে শুধু দেখে চলেছে সে। ভুত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান সবই যেন তার হাতের মুঠোতে। সব পরিবর্তনকে সহ্য করে সাহারা মরুভুমির বুকে দাঁড়িয়ে আছে স্ফিংক্স। আর থাকবেও আরও অনেক অনেক বছর, যখন আমরা কেউ থাকবনা। সেই দিনও সে একই ভাবে সবাইকে ইতিহাস শোনাবে স্ফিংক্স।গ্রেট স্ফিংক্সআজকের দিনের যাত্রা এখানেই শেষ করে হোটেল মুখি হলাম, সঙ্গে রইল স্ফিংক্স এর বলা গল্প আর রাতের আলোয় দেখা পিরামিড এর স্মৃতি।শ্রেয়া ঘোষ (বর্ধমান)ক্রমশ...

নভেম্বর ১৩, ২০২২
নিবন্ধ

শেষ দেখা (দ্বিতীয় পর্ব) -ছোট গল্প

বেলা তখন এগারো টা হবে কলিং বেল বেজে উঠল। বিতান দরজা খুলতে গেলে তন্দ্রা ওর বিছানায় উঠে বসে; মনের কোনে আজও একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হতে দেখে ও নিজেই খুব অবাক হয়। আজও কি তাহলে অন্তরের গভীরে রয়ে গেছে অর্কর প্রতি ভালোবাসা!ধীর পায়ে বেরিয়ে আসে ড্রয়িং রুমে। ওর পিছনে ছায়ার মত আসে চাঁদ; একটু যেন চমকে গেল অর্ক। এটা কে? নিজের মনে নিজেকে প্রশ্ন করে। এ যে আমার ছোট বেলা ভাবে অর্ক। এসব ভাবতে গিয়ে খেয়াল করে নি সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে তন্দ্রা।কেমন আছো? জিজ্ঞাসা করে তন্দ্রা।ওর ডাকে সম্বিত ফিরে আসে অর্কর। হ্যাঁ, ভালো আছি। বলে তাকায় তন্দ্রার দিকে। তন্দ্রার শরীরের কথা শুনেছে বিতানের কাছে। তবুও চোখের সামনে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। ভাবে সেই সুন্দর তন্বী মেয়েটা রোগের কারণে কি হয়েছে।তন্দ্রা ব্যাপারটা স্বাভাবিক করার জন্য বলে ওঠে তুমি যে সময় বের করে আসতে পেরেছ সে জন্য ধন্যবাদ।এতক্ষণে নিজের মধ্যে ফিরে আসে অর্ক, বলে আসতে তো আমাকে হতোই। আমার যে অনেক কিছু বলার ছিল যা বলার সুযোগ পাইনি।ওদের এই কথোপকথনের মধ্যে শুচি উঠে রান্না ঘরের দিকে যায় এবং বিতানকে ইশারায় ডেকে নিয়ে যায়।অর্ক বুঝতে পারে না কিভাবে শুরু করবে। তন্দ্রার কাছে এগিয়ে গিয়ে ওর হাতটা ধরে বলে আমাকে ক্ষমা করে দে।আমার প্রতি তোর অনেক অভিযোগ আছে আমি জানি। আমি যে এতগুলো বছর মনে কি গ্লানি বয়ে বেরাচ্ছি সে আমিই জানি। তুই এখন আর বিশ্বাস করবি না আমি জানি,তবু বলছি। আমি বাধ্য হয়েছিলাম সেদিন।অর্ক বলতে থাকে, তন্দ্রা আমি নিজের ইচ্ছায় বিয়েটা করিনি। আমি চাইই নি বিয়েটা করতে। আমি তো তোকে ভালোবেসেছি। আমি শুরু থেকেই তোকে ভালোবাসি, তোর সাথেই জীবন কাটাতে চেয়েছি। কিন্তু উভয়ের পড়া আর কেরিয়ারের কথা ভেবে বলা হয়ে ওঠেনি। তাই সেবার দিল্লিতে সেমিনারে্ গিয়ে যখন শুনলাম তুই বাইরে হায়ার ডিগ্রীর জন্য যাওয়ার চেষ্টা করছিস তখন তোকে আমার মনের কথা জানানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।আর বলেও দিলাম কোনো কিছু না ভেবে। আমি কিন্তু জানতাম না ঠিক কি হবে তোর উত্তর। তবে আমার উপর তোর ভরসা আর বিশ্বাস দেখে মনের কোনে একটা আশা ছিল আবার ভয়ও ছিল যদি আমার জন্য তোর মনে সেরকম কিছু না থাকে তাহলে নিজের কাছে ছোটো হয়ে যাব। তুই যদি অন্য কাউকে পছন্দ করিস। এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বলেও দিলাম। তোর কাছে যখন সাড়া পেলাম তখন আমার কি অবস্থা হয়ে ছিল সেটা তো তুই সবথেকে ভালো জানিস।তার ফল যে তুই পেয়েছিস সে তো দেখলাম তোর সাথে রয়েছে।ওই রকম আনন্দ আমার আগে হয় নি; কলকাতা ফেরার পর সেদিন প্রথম বাড়ি ফিরে চন্দ্রিমাকে ফোন করে ডাকি। ওই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু আর তোর দিদি তাই ওকে ই খবরটা প্রথম দেব ঠিক করি আর ওর মাধ্যমে আমাদের বাড়িতে জানাব এটাও ভাবি। কিন্তু ও জানার পর যেটা ঘটল সেটা আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। আমি তো ভাবতাম ও কাউকে পছন্দ করে, ওর কাছে সেরকমই শুনেছিলাম। যদিও খোলাখুলি কিছু বলেনি কোনো দিন। আমি তো খুব ভালো বন্ধু ছাড়া ওকে কখনো কিছু ভাবিনি। অতি উৎসাহিত হয়ে ওকে সেদিন কথাটা বলতে যাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল। আমি ভাবিনি নিজের দিদি হয়ে এইভাবে হিংসা করতে পারে। আমার সম্বন্ধে এরকম ভাবতে পারে সেটাও বুঝিনি। ওর সাথে যখন এই নিয়ে কথা, তর্ক বিতর্ক চলছে তখন তুই এসেছিলি, আমি মায়ের কাছে পরে শুনলাম। আমি যে ভয়টা পেয়েছিলাম সেটাই ঘটল।তুই অভিমান করে চলে গেলি, কোনো রকম কোনো যোগাযোগ করলি না, করার পথ ও বন্ধ করে দিলি। আমি তখন তোর দিদির অভিনয়ের কাছে অসহায়। সবাই তখন আমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে লাগল। আমার মা,বাবা, তোর মা সবাই। ডাক্তার বললেন ওকে কোনো রকম মানসিক চাপ দেওয়া চলবে না। তখন বাধ্য হয়ে আমি বিয়েতে রাজি হই। ও আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেনি। শুধু তোর প্রতি হিংসা করে, তোর কাছ থেকে আমাকে দুরে সরিয়ে নিতে এই বিয়ে। প্রথম প্রথম তোর কথা উঠলেই সিনক্রিয়েট করত। তারপর থেকে আমি চুপচাপ থাকি। ও ওর কাজে সফল হয়েছে। ও আমাকে তোর কাছ থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল সেটা পেরেছে।অর্ক ঝড়ের মতো কথাগুলো বলে গেল। এমন সময় শুচি খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে ঢুকল।কিছু মনে করোনা তোমার শেষের কথাগুলো কিছুটা শুনেছি, তুমি আমাদের জানাতে পারতে। তুমি কিছু ই বলোনি, শুধু বারবার তন্দ্রার খোঁজ করতে।ওটা আমার খুব ভুল হয়েছে, সেসময় তোদের সব জানালে ভালো করতাম। আজ তোদের আর আমার কথা বিশ্বাস হবে না। বিশ্বাস করা না করা তোদের ব্যাপার। আমার বূকের উপর একটা পাথর চাপানো ছিল এতদিন আজ তন্দ্রাকে সব বলে কিছু টা হালকা লাগছে। হ্যাঁ, আর একটা কথা যেটা না বললে সম্পুর্ণ হবে কথা। আমাদের শুধু বিয়েটাই হয়েছে। ও চেয়েছিল তন্দ্রাকে সবার থেকে দূরে সরিয়ে দিতে, আমাকে ওর কাছ থেকে কেড়ে নিতে ও সেটা এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের মুখে আমাকে বলেছে। সেদিন থেকে ও আমার কাছে পৃথিবীর জঘন্যতম মানুষ। আমি চেষ্টা করি সবসময় ওর সামনে না পড়তে। আমাদের দেখা হয়না বললেই চলে। ও থাকে ওর জীবন নিয়ে। ওর কলেজ, আউটিং, পার্টি এসব নিয়ে।তবে ইদানিং যেন একটু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। জানিনা তার মধ্যে আবার কিছু আছে কিনা!তন্দ্রা এই কথাগুলো শোনার পরে অর্কর দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকালো যার মধ্যে কোনো ক্ষোভ, দুঃখ, রাগ কিছু তো ছিলই না বরং একটা কষ্ট, সহানুভূতি দেখতে পেল শুচি।অর্ক এবার তন্দ্রাকে বলল আমার উপর রাগ, অভিমান, ঘৃণা এসব বুকে নিয়ে চলে গেছিলি তো আমি বুঝেছিলাম তখনই যখন মা আমাকে বলেছিলেন তুই এসেছিল। কিন্তু এতবড় একটা খবর তুই আমার থেকে আড়ালে রাখলি!! এতটা অবিশ্বাস!!না না, তা নয় বলে ওঠে তন্দ্রা।তবে আজ যখন তুই এই অবস্থায়, ছেলে এতবড় হয়ে গেছে তখন তুই আসলি, কেন আগে আমাকে বলিসনি?আমি চলে গেছিলাম ঠিক। রাগ হয়েছিল নিজের উপরে। যে আবেগ আমি ধরে রেখেছিলাম এতদিন কেন সেটা ভাবলাম সেই ভেবে খুব রাগ হয়েছিল নিজের উপর। তাই ঠিক করছিলাম তোমাদের জীবন থেকে নিজেকে অনেক দুরে সরিয়ে নিয়ে যাব। তাই পরেরদিন বাড়ি থেকে দিল্লি চলে গেলাম, সাতদিনের মধ্যে লন্ডন।কিন্তু ভাগ্য আমাকে সাথ দিল না। আমি তোমাকে ভুলব ভাবলে কি হবে, ভোলার পথ তো ঈশ্বর বন্ধ করে দিয়েছে সেদিন রাতে।যেদিন বুঝতে পারলাম সেকথা প্রথমে তোমাকেই জানাবো বলে ফোন করেছিলাম। কিন্তু ফোন ধরলো তোমার স্ত্রী। সেকথা শুনে আমার কি হয়েছিল জানিনা। তবে জ্ঞান ছিল না। যখন জ্ঞান ফিরল নিজেকে হসপিটালের বেডে দেখলাম।তারপর সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফোন করে জানতে পারলাম দিদির সাথে তোমার বিয়ের কথা। মা তখন বলেছিল তোকে জানাই নি, তুই কষ্ট পাবি। আর তুই তো এখানে নেই। দু বোনের এই নিয়ে বিবাদ হোক আমি চাই নি। আমি মাকে আর কিছুই জিজ্ঞাসা করিনি। আর কিই বা জিজ্ঞাসা করতাম?আমার তখন বলার কিছু ছিলনা। আমি শুধু বলেছিলাম, তাহলে আমি দুরেই থাকি, দেশে আর ফিরে যাব না।তাই আর দেশে সেভাবে আসা হয়নি। আর তোমার জীবনে আমার জন্য যাতে কোনো অশান্তি না হয় তাই বলিনি কিছু।জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলাম নিজের মত করে।আমার এই লড়াইয়ে আমাকে সাথ দিয়েছে আমার রুমমেট আফরিন আর ছিলেন, না ছিলেন কেন আজও আছেন আমার বাড়িওয়ালা মিসেস টেলর। আমরা ভারতীয়রা ভাবি না যে ইউরোপীয় মহিলাদের মধ্যে মাতৃত্ব বোধ নেই! একদম ভুল ভাবনা। আজ পর্যন্ত উনি আমাকে এবং আমার ছেলেকে যেভাবে আগলে রেখেছেন কোনো ভারতীয় মহিলা পারবে না। আমার প্রতি ওনার স্নেহের কারণ ওনার মৃতা মেয়ে। সে নাকি আমার মতো ছিল অবশ্যই ইউরোপীয় ভার্সন বলে একটু হাসার চেষ্টা করে তন্দ্রা।আজও আমি ওনার কাছেই থাকি। মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়েছি আমিও।যাক সেসব কথা। আমি তোমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে চাই নি কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি তোমার আর দিদির মাঝে অযাচিতভাবে অনুপ্রবেশ করে ফেলেছি। সেদিন যা ঘটে ছিল সেটা সাময়িক আবেগ। আমি ভেবেছিলাম তুমি দিদিকে ই ভালোবাসো। আমি ভাবিনি দিদি আমার সাথে এরকম করতে পারে। আমার রাগ হয়েছিল মায়ের উপরে , পরে ভাবলাম মা হয়ত দিদির আর তোমার ব্যাপারটা জানত। এটা ভাবলাম কারণ আমি যখন বলেছিলাম তখন মা এমনভাবে অবাক হয়েছিল যেন আমার কথাটা অসম্ভব। তাই আমি আর কোনো কথা কাউকে জানাইনি। শুধু শুচি জানত পরে বিতান জেনেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। বলে অসহায় ভাবে তাকালো তন্দ্রা। সেই আসতে হলো আর তোমার সামনাসামনি হতেও হলো এই ছেলের জন্য। এত কথা একসঙ্গে বলে তন্দ্রা হাঁফাতে লাগলো। শরীর খুব দুর্বল।অর্ক শুচিকে বললো ওকে ঘরে নিয়ে যা, রেস্ট নিক। অনেকক্ষন বসে আছে। আর ওর ছেলেকে পাঠিয়ে দে আমি একটু কথা বলি।শ্রীমতি রাখি রায়বর্ধমানক্রমশঃ ...

এপ্রিল ২৪, ২০২২

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

প্লাস্টিকের ভিড়ে কাঠের রথের কদর অটুট, বর্ধমানের গোলাপবাগে কচিকাঁচাদের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কাষ্ঠশিল্পী

রথযাত্রা মানেই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে টানার আনন্দে মেতে ওঠা ছোট-বড় সকলের উৎসব। আধুনিক সময়ে প্লাস্টিক, ফাইবার কিংবা বিভিন্ন কৃত্রিম উপকরণে তৈরি রথের ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, তবুও ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথের আবেদন আজও অমলিন।রথযাত্রাকে সামনে রেখে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রথ নির্মাণে যুক্ত শিল্পীরা। ছোটদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানান আকারের কাঠের রথ তৈরি করতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন তাঁরা। রঙের ছোঁয়া, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জায় ব্যস্ত শিল্পীদের কর্মশালাগুলি যেন উৎসবের আগাম বার্তা বহন করছে।ঠিক তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ চত্বরে। একটি আবাসনের কচিকাঁচাদের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথ নির্মাণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এক কাষ্ঠশিল্পী। নিষ্ঠার সঙ্গে রথের প্রতিটি অংশে শেষবারের মতো হাতের ছোঁয়া দিচ্ছেন তিনি, যাতে রথযাত্রার দিন খুদেদের আনন্দে কোনও খামতি না থাকে।স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগেও কাঠের রথের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমেনি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার সংস্কৃতি ও আবেগকে বাঁচিয়ে রাখতেই অনেক আবাসন ও পরিবার এখনও কাঠের রথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।রথযাত্রার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই গোলাপবাগের এই কাষ্ঠশিল্পীর কর্মব্যস্ততা যেন বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং উৎসবের আবহকেই নতুন করে তুলে ধরছে।

জুলাই ১৩, ২০২৬
দেশ

ইরানের বড় পদক্ষেপে কাঁপছে বিশ্ব! পেট্রোল-ডিজেল থেকে গ্যাস, কী অপেক্ষা করছে ভারতের জন্য?

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ফের উত্তেজনা বাড়তেই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । এর জেরে ভারতে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দামে প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।রবিবার ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হবে। অন্যদিকে আমেরিকার দাবি, প্রণালী এখনও খোলা রয়েছে। তবে দুই দেশের সংঘাতের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রয়োজনীয় তেলের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। তবে আপাতত ভারতীয় শোধনাগারগুলিতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত নতুন সংঘাতের প্রভাব তেল আমদানিতে বড়ভাবে পড়েনি।বর্তমানে ভারত শুধু একটি দেশের উপর নির্ভর করে না। রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আসে। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ভেনেজুয়েলা থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করা হয়। ফলে বিকল্প উৎস থাকায় আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।গত জুন মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় চার দশমিক তিরানব্বই মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকেই এসেছে সবচেয়ে বেশি, প্রতিদিন প্রায় দুই দশমিক সাত মিলিয়ন ব্যারেল।তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রান্নার গ্যাস এবং প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে। আগেরবার ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় দেশে গ্যাসের সরবরাহে চাপ পড়েছিল। অনেক মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত গ্যাসের সিলিন্ডার বুক করেছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে সরবরাহের নিয়ম কঠোর করতে হয়েছিল। এবারও যদি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়ে বা সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বড় বাধা তৈরি হয়, তাহলে গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

জুলাই ১৩, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যরাতে আনন্দের আসর মুহূর্তে মৃত্যুকূপ! পানশালার আগুনে মৃত অন্তত ২৭, আতঙ্কে বিশ্ব

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল থাইল্যান্ডের রাজধানী। ব্যাঙ্ককের একটি জনপ্রিয় পানশালায় মধ্যরাতে আগুন লেগে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।রবিবার গভীর রাতে উত্তর ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। সেই সময় হঠাৎ আগুন লাগে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো পানশালায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। আতঙ্কে সবাই বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও অনেকেই আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন। আগুন প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় বহু মানুষের বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ব্যাঙ্ককের গভর্নর এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। পানশালার পিছনের অংশ থেকেও একাধিক দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে মঞ্চের কাছে একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপরই বিস্ফোরণ হয় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পুরো পানশালা আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

জুলাই ১৩, ২০২৬
কলকাতা

দলবল নিয়েই বেরিয়েছিলেন, ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে! দমদমে কুখ্যাত দুষ্কৃতীর খুনে তোলপাড়

দমদমে খুন হল কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্ত। সোমবার ভোরে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গ্যাং দ্বন্দ্বের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দমদম থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর দমদম পৌরসভার খলিসাকোটা এলাকায় ভোরের দিকে রাজা দত্ত তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে বাইকে করে পৌঁছেছিলেন। সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে বচসা ও সংঘর্ষ শুরু হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সময় রাজা দত্তের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাঁকেই গুলি করে খুন করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।রাজা দত্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সহযোগী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা না হলেও পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে বচসা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে এই খুনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পুলিশ সূত্রে দাবি, রাজা দত্তের বিরুদ্ধে একাধিক খুন-সহ নানা অপরাধমূলক মামলার অভিযোগ ছিল। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর খুনের ঘটনায় নতুন করে অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

আট দিন পর ট্রলার মিলতেই শিউরে ওঠার দৃশ্য! একসঙ্গে মিলল ৯ মৎস্যজীবীর দেহ, এখনও নিখোঁজ অনেকে

বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি ট্রলার থেকে উদ্ধার হল ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ। পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর বন্দর থেকে ২ জুলাই মাছ ধরতে বেরিয়েছিল মা কালী নামে ট্রলারটি। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। দীর্ঘ আট দিন ধরে তল্লাশির পর বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচরের কাছে ট্রলারটির খোঁজ মেলে।রবিবার দুপুরে পুলিশ, বন দপ্তর এবং ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ডুবে থাকা ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটিকে সীতারামপুরে নিয়ে এসে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। ট্রলারের ভিতর থেকে একে একে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, ট্রলারটিতে মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। এখনও ৬ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের সন্ধানে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের অনুমান, খারাপ আবহাওয়া বা সমুদ্রের দুর্যোগের জেরে ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। খবর পেয়ে ট্রলারের মালিকপক্ষ এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। একাধিক ট্রলারের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে উপকূলে আনা হয়।ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। তাঁর কথায়, এখনও ট্রলারের ভিতরে আরও কয়েকজন মৎস্যজীবীর দেহ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

‘খেলা হবে’ দিবস বাতিল! ষোলো অগস্টে শুভেন্দু সরকারের বড় ঘোষণা, বদলে কী পালিত হবে জানেন?

দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের অন্যতম জনপ্রিয় স্লোগান ছিল খেলা হবে। পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ষোলো অগস্ট দিনটিকে খেলা হবে দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা করেছিলেন। এবার সেই সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এবার থেকে ষোলো অগস্ট আর খেলা হবে দিবস হিসেবে পালন করা হবে না। তার বদলে দিনটি পালিত হবে আয়ুষ্মান দিবস হিসেবে।রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় দলীয় নেতা, কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ষোলো অগস্ট বিজেপি সরকারের একশো দিন পূর্ণ হওয়ার দিন। একই সঙ্গে এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উনিশশো ছেচল্লিশ সালের ষোলো অগস্ট দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এর ঘটনা ঘটেছিল। সেই কারণেই এই দিনকে নতুনভাবে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে এই দিনে খেলা হবে দিবস পালন করা হলেও বর্তমান সরকার এটিকে আয়ুষ্মান দিবস হিসেবে পালন করবে।আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও এদিন আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সত্তর বছরের বেশি বয়সিদের পাশাপাশি যোগ্য উপভোক্তারাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু থাকবে।অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা যোগ্য, তাঁদের সবাইকে ধাপে ধাপে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তবে অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে ষোলো অগস্ট খেলা হবে দিবস হিসেবে পালিত হত। সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক পুরনো সিদ্ধান্তে বদল আনা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ষোলো অগস্ট পালন নিয়েও নতুন সিদ্ধান্ত।

জুলাই ১৩, ২০২৬
কলকাতা

বাবার পর এবার ছেলে! গভীর রাতে হোটেল থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়কের পুত্র, বাড়ল চাপ

দীর্ঘদিন গা ঢাকা দেওয়ার পর সম্প্রতি প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণেশ্বরের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হল নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে । চলতি বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পানিহাটি কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন, যদিও ভোটে পরাজিত হন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ড্রাইভারের লটারির টাকা বন্দুক দেখিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে । অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ দক্ষিণেশ্বরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তাঁকে খড়দহ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, লটারির টাকা কীভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছিল, এই ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল এবং ওই টাকা কোথায় গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসার একাধিক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে । আজ তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।এদিকে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তোলাবাজি, জমি দখল, ভয় দেখানো এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। যদিও সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, তিনি আত্মগোপনে ছিলেন না এবং তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পানিহাটির নির্মল ঘোষকে তারা আমন্ত্রণ জানায়নি। পশ্চিম মেদিনীপুরের আর এক নির্মল ঘোষকে ডাকা হয়েছিল।এই নামের বিভ্রান্তি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর চর্চা চলছে, তখনই প্রাক্তন বিধায়কের ছেলের গ্রেফতার নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এখন নজর নির্মল ঘোষের দিকে। তদন্তে নতুন তথ্য মিললে তাঁর বিরুদ্ধেও আরও বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

সূর্যপুরে অশান্তির নেপথ্যে কে? সিপিএম নেতাকে গ্রেফতার করতেই তুঙ্গে রাজনৈতিক ঝড়

সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। সিপিএম নেতা তথা ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের প্রার্থী লাহেক আলিকে রবিবার তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন তিনি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন এবং অশান্তি ছড়াতে ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মধ্যে সূর্যপুরে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর লাহেক আলি-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যেমন দোষীরা শাস্তি পাবেন, তেমনই অশান্তি ছড়ানো বা প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড়া হবে না।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি পুলিশের। তাঁকে নরেন্দ্রপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আদালতে তোলা হবে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সিপিএমের অভিযোগ, ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁদের নেতাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ করেছে সরকার। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আইন নিজের পথে চলবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা।সূর্যপুর অশান্তির তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে আরও পদক্ষেপ করা হতে পারে।

জুলাই ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal